The Beginning Of The Current Crisis In Nauru

in LifeStyle6 months ago (edited)

image.png
Source

পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম গনতান্ত্রিক দেশ নাউরুর নেই কোন অফিসিয়াল রাজধানী, নেই এ্যাম্বাসি। নুরা পার্টি নামে একটা শক্তিশালী রাজনৈতিক দলও রয়েছে। মাত্র ১১ হাজার জনগণের এই দেশটি মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র ছিলো। সরকারের অব্যাবস্থাপনা ও বিরুপ পলিসির কারনে যে একটা দেশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো নাউরু। বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী এই রাষ্ট্রটি এখন পথের ফকির। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত!!

মানচিত্রে অবস্থান

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র নাউরু। এই দেশটি ভ্যাটিকান সিটি এবং মোনাকোর পর বিশ্বের ৩য় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যাও বেশ সীমিত। মাত্র ১১ হাজার আদিবাসী নিয়ে চলছে এই দেশটি। বর্তমানে নাউরুর না আছে কোনো আবাদি জমি, না আছে এখানকার জনগণের কোনো নিশ্চিন্ত জীবন। মাত্র দুই দশকেই বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র থেকে ভাড়াটে রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে নাউরু। যেই নাউরুকে একসময় প্রশান্ত মহাসাগরের কুয়েত বলা হতো, সেই নাউরু কিনা এখন অন্য রাষ্ট্রের কাছে হাত পেতে চলে। কীভাবে এলো বিশাল অধঃপতন? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে কথা।

যেভাবে স্বর্ণের খনিতে পরিনত হলো নাউরু

কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পাখির অভরায়ণ্য ছিলো প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে এই নাউরু অঞ্চলটি। তাদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে জমতে জমতে উৎকৃষ্ট মানের ফসফেটের টিলায় পরিণত হয়। পরবর্তীকালে এই ফসফেটের টিলা নাউরুর জন্য ‘স্বর্ণের খনি’ হয়ে ধরা দেয়। ফসফেট কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান এবং নাউরুতে যে ফসফেট পাওয়া যেত, সেগুলো ছিলো পুরো পৃথিবীতে সর্বোৎকৃষ্ট মানের। চিন্তা করুন, একটি দেশের আবাদি জমি প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ সেখানে রয়েছে চাষাবাদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট উপাদানটি।

জার্মান ও ব্রিটেনের লুটপাট

১৯০৬ সালে জার্মনরা প্রথম নাউরুর এই ফসফেট খনির সন্ধান পায়। ‘প্যাসিফিক ফসফেট কোম্পানি’ এর নামে এখান থেকে তারা ফসফেট উত্তোলন শুরু করে। এ অবস্থা চলতে থাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা পরাজিত হলে ‘ব্রিটিশ ফসফেট কমিশন’ এর নামে নাউরু থেকে ফসফেট উত্তোলন চলতে থাকে। আর এর সুবিধা নেয় ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও অবস্থা প্রায় একই ছিলো।

ঘুরে দাঁড়ায় নাউরু

১৯৬৮ সালে নাউরু স্বাধীনতালাভের পর দৃশ্যপট পুরো পাল্টে যায়। ‘নাউরু ফসফেট কর্পোরেশোন’ পুরোদমে ফসফেট উত্তোলন চালাতে থাকে। আর সেই ফসফেট বিক্রি করতে থাকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে। জাহাজে পণ্য তোলার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে গড়ে তুলে বিশাল আকৃতির ক্রেন। সহজেই নাউরুর সরকারের হাতে আসতে থাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

প্যাসিফিকের কুয়েতে পরিনত হয় দেশটি

১৯৭৫ সালে নাউরুর সরকারি ব্যাংকে জমা হয় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার! স্বাধীনতার পর এক যুগের অর্ধেক সময়ে কোনো রাষ্টের এত বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়া বিরল। আর সে সময় নাউরুর জনসংখ্যা ছিলো ৭০০০ এর কাছাকাছি। নাউরুর জনগণের মাথাপিছু আয় এত বেশি ছিলো যে, তাদের সামনে একমাত্র ধনী রাষ্ট্র ছিলো কুয়েত। নাউরুকে তখন বলা হতো প্যাসিফিকের কুয়েত। তেল রাজ্য কুয়েতের মতোই সহজ অর্থ আয় করতে থাকে নাউরু।
নাউরুর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তাদের পরবর্তী কয়েক প্রজন্মকে আরামেই খাইয়ে-পরিয়ে রাখা যেতো। কিন্তু তাদের এই অর্থ দেশের উন্নয়নের জন্য খরচ করা ছিলো অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা, উচ্চ শিক্ষা, মানসম্মত বাসস্থান- এসব কাজে খরচ করার জন্য এই অর্থ ছিলো যথেষ্ট। কিন্তু নাউরু কর্তৃপক্ষ দামি বাড়ি, বিলাসবহুল হোটেল এবং গলফ কোর্ট বানায়। নাউরু কর্তৃপক্ষ এমনভাবে টাকা উড়াচ্ছিলো, যেন তা কোনদিনই শেষ হবে না।

শুরু হয় বিলাসিতা, অর্থ পাচার ও দুর্নীতি

টাকা বেশি হয়ে যাওয়ায় তারা একটি বিমানবন্দর বানায়, যার উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা। নিজেদের দেশে খাদ্য উৎপাদন করার চেয়ে তারা বহির্দেশ থেকে খাবার আনার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে থাকে। সেজন্য তারা সাতটি বোয়িং বিমান কেনে, যা একসাথে নাউরুর ১০ শতাংশ জনগণ বহন করতে সক্ষম।
তাদের এই বিলাসিতা যেন শেষ হবার নয়। সবকিছু একসাথে দেখভাল করার জন্য তারা একটি নাউরু ট্রাস্ট গঠন করে। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অবাস্তব পরিকল্পনা- সবকিছু নাউরুকে নিঃস্ব করে দিতে শুরু করে। সরকারি লোকজন রাষ্ট্রের টাকায় বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে শুরু করে। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, লন্ডন এবং ফিজির মতো দেশগুলোতে তৈরি করে নিজেদের বিলাসবহুল হোটেল। এর ফলে তারা প্রচুর পরিমাণ অর্থ পাচার করতে থাকে।

ফুরিয়ে যায় ফসফেটের খনি

কিন্তু তাদের এই ফসফেটের সম্পদ হঠাৎ ফুরিয়ে আসে। ফসফেট রপ্তানি ছাড়া নাউরুর যেহেতু আর কোনো রাষ্ট্রীয় উপার্জন নেই এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারও বলতে গেলে ফাঁকা হয়ে পড়েছে, তাই নাউরু সরকার এখন অন্যান্য রাষ্ট্রের কাছে হাত পাততে বাধ্য হলো। অন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ ধার নিয়ে তারা রাষ্ট্র চালাতে থাকে।
চিন্তা করুন, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র থেকে কীভাবে অল্প সময়েই নাউরুকে পথে বসতে হলো। সবকিছু এখানেই শেষ নয়। অন্য রাষ্ট্রের থেকে ধার করা অর্থ তো নাউরুকে ফেরত দিতে হবে। সেজন্য তাদের অর্থ উপার্জনের অন্য রাস্তা খোঁজা দরকার। নাউরুর একজন অর্থ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিলেন, লন্ডনভিত্তিক ব্যান্ড ‘ইউনিট ফোর প্লাস টু’ কে দিয়ে সঙ্গীত অনুষ্ঠান আয়োজন করতে। লন্ডনে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে উঠে আসবে নাউরুর রাষ্ট্র চালানোর অর্থ। কতটুকু ভারসাম্যহীন হলে একটি রাষ্ট্র তাদের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেয় একটি সঙ্গীত দলের অনুষ্ঠানের ওপর, তা নাউরু সরকারকে না দেখলে বোঝা যাবে না। মাত্র দু সপ্তাহ চলার পর ইউনিট ফোর প্লাস টু এর অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সেইসাথে নাউরুর উপর ফেলে দেয় ৭ মিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা!

পথে বসে পুরো জাতি

এ ঋণের বোঝা বহন করা নাউরুর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিলো না। এজন্য অনুষ্ঠানের পেছনে যে সকল প্রতিষ্ঠান অর্থ খরচ করেছিলো, তারা নাউরুর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেয়। সাথে বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় পুরো জাতির ভবিষ্যৎ। পথে বসতে বাধ্য হয় পুরো নাউরু জাতি।
নাউরুর কাছে এখন আছে ২১ বর্গ কিলোমিটারের জমি, যার কোথাও ফসল আবাদ করা সম্ভব না। মাত্রাতিরিক্ত খোঁড়াখুড়ির ফলে আশেপাশের সকল পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। আর সেই সাথে আছে ৭,০০০ লোকজন, যারা সবাই মিলে একটি জেলখানায় আটকা পড়ে গিয়েছে। এদের সকলের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা নাউরু সরকারের জন্য এক অসম্ভব ব্যাপার।
নাউরু সরকার ঘোষণা দিলো, ২০ হাজার ডলার দিয়ে যেকেউ চাইলে নাউরুতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। কিন্তু এতে হলো হিতে বিপরীত। নাউরুর অতি সাদাসিধে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মাফিয়া গোষ্ঠী ৭০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ পাচার করে বসে।

অস্ট্রেলিয়ার উদ্বাস্তু শিবির প্রতিষ্ঠা

দিনে দিনে নাউরু আরও দুর্দশার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়া সরকার নাউরুতে উদ্বাস্তু শিবির কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। যারা অস্ট্রেলিয়াতে পালিয়ে আসত কিংবা কোনো কঠিন অপরাধে অস্ট্রেলিয়া সরকার যাদের দেশ থেকে বিতারিত করার নির্দেশ দিত, তাদের ঠিকানা হতো নাউরু। এজন্য নাউরুকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ভাড়া দিত অস্ট্রেলিয়া সরকার। কিন্তু নাউরুর পরিবেশ এতই বাজে যে, সেখানে নিয়মিত খাবার পানি পেতেও মারামারি করা লাগত। জীবনের নিরাপত্তার তো প্রশ্নই ওঠে না।
নানা আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় সেই উদ্বাস্তু কেন্দ্র। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে কিছুটা উন্নতি করে আবার এই কেন্দ্র চালু করা হলেও, অবস্থা সেই আগের মতোই আছে। যারা এই কেন্দ্রের দুর্দশা নিয়ে কথা বলতে যায়, তাদের কপালে জোটে করুণ পরিণতি। এজন্য প্রাণের ভয়ে কেউ এই কেন্দ্র নিয়ে আর কথাও বলতে চায় না। ২০১৬ সালে এক ইরানি যখন জানতে পারেন, তাকে নাউরুর উদ্বাস্তু কেন্দ্রে ১০ বছর কাটাতে হবে, তখন তিনি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিস্থিতি কতটা শোচনীয় হলে এমনটা ঘটতে পারে!
(কপিরাইট- উপরের কিছু অংশ লেখা 'roar বাংলা' থেকে নেওয়া হয়েছে)

এখন কেমন আছে নাউরু?

বর্তমান নাউরুর দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানে ৭০ শতাংশ জমি আছে যাতে কোনোপ্রকার চাষাবাদ সম্ভব না, নিম্নমানের খাবার এবং নানা রোগে ভুগতে থাকা জনগণ। নাউরুর ৯৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৯৩ শতাংশ নারী স্থূলতার শিকার। মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ নাগরিকের রয়েছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস। কিডনি বিকল এবং হৃদরোগ সেখানে খুবই স্বাভাবিক। সেই সাথে নাউরুর ৯০ শতাংশ নাগরিকই বেকার।একসময়ের বিশাল প্রতিপত্তির মালিক নাউরুর বর্তমান করুণ দশা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বদা সচেতন থাকা দরকার এবং দুর্নীতির ফলাফল হতে পারে এরকম মারাত্মক ভয়াবহ। কয়েকদিন আগে 'The body politics' শিরোনামে আমার টাইমলাইনে যে পোস্টটি লিখেছিলাম সেখানে দেখিয়েছিলাম কিভাবে ক্ষমতার রাজনীতি একটা রাষ্ট্রকে ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিনত করে।

পতাকা

-নাউরু প্রথম অন্তত ৩০০০ বছর আগে মাইক্রোনেশিয়ানস এবং পলিনেশিয়ানদের বাস করতেন। নাউরুতে ঐতিহ্যগতভাবে ১২ টি গোষ্ঠী বা উপজাতি ছিল, যা দেশের পতাকাটির ১২-ইঙ্গিত তারকাতে প্রতিনিধিত্ব করে।

সরকার ব্যবস্থা

-নাউরু একটি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে একটি প্রজাতন্ত্র। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র প্রধান এবং সরকারের প্রধান উভয়। 19-সদস্যের একটি একক সংসদ রয়েছে। প্রতি তিন বছর পরপর এই ১৯ সংসদ নির্বাচিত হয়। সংসদ তার এই ১৯ সদস্যদের থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে, এবং সংসদে একজন সভাপতি থাকেন। সভাপতি পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা নিয়োগ করে।

রাজনৈতিক দল

নাউরুতে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক কাঠামো নেই এবং যে কেউ যখন তখন দল গঠন করতে পারে। আবার দল ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। নাউরুর রাজনীতিতে সক্রিয় এমন চারটি দলঃ
১) নুরা পার্টি
২) ডেমোক্রেটিক পার্টি
৩) নাউরু ফার্স্ট
৪) কেন্দ্র পার্টি
-সরকারের মধ্যে সকল দলকে একসাথে দলীয়করণের পরিবর্তে বর্ধিত পারিবারিক বন্ধনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।

প্রশাসনিক অঞ্চল

নাউরু ১৪ টা প্রশাসনিক জেলায় বিভক্ত এবং ৮ টা নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত। প্রতিটি জেলাকে গ্রামে বিভক্ত করা হয়েছে।সর্বাধিক জনবহুল জেলাটি হল ডেনিগোমোডু জেলা।

ঐতিহাসিক আংগাম দিবস

-দ্বীপটি 1920 সালে একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর সম্মুখীন হয়েছিল, যার ফলে স্থানীয় নুওয়ানের মধ্যে 18% -এর মৃত্যুহার ছিল।প্রতিবছর ২৬ অক্টিবর দেশটিতে আংগাম দিবস পালন করা হয়; দুটি বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯২০ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী থেকে নাউরুয়ানদের পুনরুদ্ধারের স্মৃতিতে এটি উদযাপন করা হয়।

মিডিয়া

  • নাউরু থেকে কোনো দৈনিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় না, মিনেন ক' নামক একটি পাক্ষিক কাগজ প্রকাশ পায়। দেশটিতে
  • একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন আছে: নউরু টেলিভিশন।
  • নাউরু সম্পর্কিত অদ্ভুত ও মজার কিছু তথ্য
  • নাউরু একটি ডিম্বাকৃতির দেশ।
  • ফসফেট মাইনিং, অফশোর ব্যাংকিং এবং নারিকেল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এগুলো মূলত তাদের আয় রোজগারের মূল উৎস।
  • নাউরুর নিজস্ব ভাষায় কথা বলা লোকের সংখ্যা খুব কম। তাই এদের ভাষার উৎপত্তির ইতিহাস সম্পর্কে কেউই কিছু জানেনা। এবং ভবিষ্যতেও আর কখনো এদের ইতিহাস সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়।
  • পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নাউরু ১৯৯৯ সালে ইউনাইটেড ন্যাশনের সাথে যুক্ত হয়।
  • ১৯৬৮ সালে আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে আলাদা হয়ে নাউরু স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
  • ১৯০৬ সালে আমেরিকা খনিজ সম্পদের খোঁজে নাউরুর ৯০% ভূমি খনন করে ফেলে।
  • বিশ্বের শুধুমাত্র তিনটি দেশ রয়েছে যেগুলোর ভুমি ফসফেট পাথরের। এরমধ্যে একটি হচ্ছে নাউরু।
  • প্রতিবেশী দু তিনটি দেশ ছাড়া আর কোনো দেশে নাউরুর কোনো অ্যাম্বাসি নেই। কোনো দেশ থেকে নাউরু যেতে হলে ফিজির পোর্ট ব্যবহার করে দেশটিতে যেতে হয়।
  • নাউরুতে শুধু একটা এয়ারপোর্টই আছে। যার আয়তন মাত্র ৩০ কিলোমিটার !
  • ১৭৯৮ সালে এক ব্রিটিশ নেভিগেটর এই দেশটি আবিষ্কার করেন।
  • ফসফেট বিক্রি করেই নাউরু সৌদি আরবের চেয়েও বেশি অর্থ উপার্জন করেছিলো!
  • দেশটির একমাত্র রেললাইনের দৈর্ঘ্য মাত্র ৫ কিলোমিটার।
  • পৃথিবীর সবচেয়ে মোটা মানুষদের বসবাস নাউরুতে। এখানকার প্রতিটা মানুষই অস্বাভাবিক রকমের মোটা ও স্বাস্থ্যবান।
  • পৃথিবীর সবচেয়ে কম সংখ্যক মানুষ এই দেশটিতে ভ্রমণ করেছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই দেশটিতে ভ্রমণ করেছে মাত্র ৩০০ জন ট্যুরিস্ট !
  • নাউরু চাষাবাদের অযোগ্য একটি দেশ। এখানে কোনোরকম শস্যই উৎপাদন হয়না। ফলমুল থেকে যাবতীয় সকল প্রকার খাদ্যই বাইরে থেকে আমদানী করে আনা হয়। নিজস্ব খাবার বলতে কিছু সামুদ্রিক মাছই শুধু রয়েছে।

কলমে: মুহাম্মদ মিরাজ মিয়া ভাই

Sort:  
UpvoteBank
Your upvote bank
__2.jpgThis post have been upvoted by the @UpvoteBank service. Want to know more and receive "free" upvotes click here