ভৌতিক গল্প : "মৃত্যুর কাছাকাছি" - পর্ব ০৫ [শেষ পর্ব]

in আমার বাংলা ব্লগlast month


copyright free image source pixabay

চতুর্থ পর্বের পর


পাঁচ (শেষ পর্ব)

লণ্ঠনের শিখা মাঝে মাঝে দপদপিয়ে উঠছে আবার স্তিমিত হয়ে পড়ছে । বড়জোর আর মিনিট দশেকের মতো তেল আছে । আজ বেরোনোর সময় লণ্ঠনে তেল ভরতে ভুলে গেছে সে । আসলে শেষ রাতের দিকে মোটামুটি ধূসর আলো থাকে চারিদিকে; তাতে আর যাই হোক না কেন মাছ ধরতে কোনো সমস্যা কোনো কালেই হয় না । তাই সে আর গা করে না, কোনো কোনোদিন কম তেলেই লণ্ঠন নিয়ে বেরিয়ে পড়ে । আজকেও তাই হয়েছিল । এক ছোট্ট ভুলের এত বড় মাশুল দেওয়া লাগবে শেষটায় ?

যেই মুহূর্তে লণ্ঠনের শিখা নিভে যাবে সেই মুহূর্তে দুলালের জীবনদীপও নিভে যাবে । সব কিছু এখন নির্ভর করছে একটি মাত্র অগ্নিশিখার উপর । দুলাল চোখ বুজে একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবতে লাগলো পরিত্রানের উপায় । সে স্কুল কলেজে পড়েনি ঠিকই কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি তার মোটেও কম নেই । সে জানে বিপদের সময় মাথা গরম করলে বা খুব ঘাবড়ে গেলে বিপদ তো কমেই না বরং উল্টে বেড়ে যায় । বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখাটাই একমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ । মাথা ঠান্ডা রেখে পরিত্রানের পথ খুঁজলে পাওয়া যাবেই যাবে। বিপদে ভয় করলে তো তুমি গেলে । নিজের বুদ্ধি, সাহস আর সামর্থ্যের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে শক্ত ভয়শূন্য হৃদয়ে বিপদের মোকাবেলা করলে বিপদ থেকে পরিত্রানের পথ মিলবেই মিলবে; তা সে যত বড় বিপদই হোক না কেন ।

আকাশ পাতাল ভেবেই চলেছে দুলাল । এদিকে লণ্ঠনটার শিখা ভয়ানক দপদপ করছে । এখন যদি একটু জোরে হাওয়া দেয় তো মুহূর্তের মধ্যে নিভে যেতে পারে । পিশাচটা এখনও গোল হয়ে ঘুরছে দুলালের চারিদিকে । ঘোরার গতি আর গর্জনের বেগ বেড়ে গেছে তার । খুশি এখন সে, কারণ সেও বুঝতে পেরেছে আর মাত্র কিছুক্ষন; তারপরেই লণ্ঠন নিভে যাবে আর শিকার তার হাতে এসে যাবে । খিদে পেয়েছে তার ভীষণ । ঘন ঘন ঠোঁট চাটছে ।

দীপ নিভে যাওয়ার আগে শিখার ঔজ্বল্য বৃদ্ধি পায়; দুলালের লণ্ঠনের শিখার আলোও হঠাৎ বেড়ে গেলো । দুলাল বুঝলো শেষ সময় আগত । ইষ্ট নাম জপার সময় এসে গেছে । হঠাৎ বিদ্যুৎচমকের মতো একটা কথা মনে পড়ে গেলো তার । হাটখোলায় সে তো লণ্ঠনটা হাত থেকে নামিয়ে পাশে রেখে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো তবুও পিশাচ তার কাছে ঘেঁষেনি কেনো ?

তার একটাই কারণ সে বিড়ি টানছিলো । বিড়ির আগুন যতই ছোট্ট একটা স্ফুলিঙ্গ হোক না কেন তা পিশাচকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে । এটাই দুলালের একমাত্র শেষ সুযোগ পরিত্রাণ পাওয়ার ।লণ্ঠনের আগুন নিভে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে দুলাল বাঘের মতো বীরবিক্রমে পূর্ণ শক্তিতে প্রবলভাবে হামা দিয়ে যেখানে সে তার ধুতি-গেঞ্জি খুলে রেখে জলে নেমেছিল সেখানে হাজির হলো । একহাতের মুঠিতে শক্ত করে লণ্ঠনটা ধরে রেখে দ্রুত বিড়ির বান্ডিলটা খুঁজতে লাগলো । লহমায় পেয়ে গেলো সেটি, প্রায় পুরো বান্ডিলটাই ভরা আছে বিড়িতে ।

মনে মনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদ্যুৎবেগে একটা বিড়ি ধরালো দুলাল । প্রায় সঙ্গে সঙ্গে লণ্ঠনের শিখাটা একবার ভীষণভাবে দপ করে জ্বলে উঠে নিভে গেলো ।

কানফাটা একটা গর্জন করে উঠলো পিশাচটা । তার তখন ভয়ঙ্কর রূপ । শিকার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে । অথচ কোনোক্রমেই দুলালকে ছুঁতে পারছে না সে । কারণ ওই আগুন । দুলালের মতলব তখন পিশাচের কাছেও পরিষ্কার । বিড়ির বান্ডিলটাতে কম করে হলেও প্রায় কুড়িটা বিড়ি আছে । একটা বিড়ি পুরো পুড়ে নিঃশ্বেষ হতে ৫-৬ মিনিট লাগে; তার মানে দুলাল এখনো ঘন্টা দুই আগুন ছুঁয়ে থাকবে । অথচ ভোর হওয়ার আর খুব বেশি দেরি নেই । দিনের আলোয় পিশাচের শরীর শুধুই একটা ধোঁয়ার কুন্ডুলিতে পরিণত হবে, দুলালের কোনো ক্ষতি করার সাধ্য থাকবে না তার ।

তবুও পিশাচটা দুলালের আশা ছাড়তে পারছে না । কিছুটা তফাতে ঝোপের ধারে বসে দুলালের দিকে অগ্নিময় দৃষ্টিতে একপলকে তাকিয়ে রইলো সেটি । তার আশা, শ্রাবণ মাস, যে কোনো সময়ে বৃষ্টি নামলে বিড়ির আগুন আর কতক্ষণ! নিমেষে নিভে যাবে । তখন এক লহমায় দুলালের ঘাড়ে কামড় বসাতে পারবে সে ।

দুলাল বোকা নয় মোটেও । বিপদের প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে সেও একই চিন্তা করতে লাগলো, যদি বৃষ্টি নাম তাহলে আর রক্ষে থাকবে না । দ্রুত ধুতিটা একটা পাগড়ির মতো করে মাথায় পরে নিলো সে তার পরে চাপালো টোকাটা, আর তার তলে বিড়ির বান্ডিলটা সুরক্ষিত রইলো । যদি সহসা বৃষ্টি নামে তো তার মুখের বিড়ি আর বান্ডিলের বিড়ি কোনোটাই আর ভিজবে না সহজে ।

এরপর দ্রুত হাটখোলার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো । যদি হাটখোলার কোনো একটা চালার নিচে পৌঁছাতে পারে তো নিশ্চিন্ত হতে পারে বৃষ্টির ব্যাপারটায়; হাটখোলা কাছেই, খুব একটা দূরে নয় ।

পিশাচটা এইবার হাল ছেড়ে দেয়ার মতো তর্জন গর্জন লাফালাফি শুরু করলো । দুলাল মোটেও ভ্রুক্ষেপ না করে সটান হাঁটা দিলো । বুকে তার সাহস ফিরে এসেছে পুরোটাই । পিশাচ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, সে নিশ্চিত ।

পিছন পিছন ধুপ ধাপ করে ভারী ভারী পা ফেলে পিশাচটা পিছু নিলো । দুলাল খুবই দ্রুত পায়ে হেঁটে মিনিট পনেরোর মধ্যে হাটখোলার চালাঘরে এসে পৌছালো । এ পর্যন্ত তার মাত্র ৪টে বিড়ি খরচ হয়েছে । যখনই একটা বিড়ি শেষ হয়ে আসছিলো তখনি তার আগুনে সে আরেকটা বিড়ি ধরিয়ে নিচ্ছিলো ।

পিশাচটা উবু হয়ে শিমুলগাছটার তলে বসে রইলো । এখনো সে আশা ছাড়তে পারেনি ।

ধীরে ধীরে সময় বয়ে চললো । অবশেষে পুব দিগন্তে দেখা দিলো চিরদিনের চেনা লাল সূর্য । জীবনে কোনো সূর্যোদয় দেখে এতটা আনন্দ দুলাল আর পায়নি । নব প্রভাতের সূর্য কিরণের প্রথম ছটায় গতরাতের বিভীষিকা সম্পূর্ন মুছে দিলো । শিমুলতলে তাকালো দুলাল । শূন্য । কেউ নেই ।

বাড়ির পথ ধরলো দুলাল । গতরাতের কথা সে কোনোদিনও ভুলবে না । মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলো সে । তার জীবন-সুতা নির্ভর করেছিল একটা তুচ্ছ বিড়ির ছোট্ট একটা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের উপর, যে কোনমুহূর্তে সেই সুতাটা ছিঁড়ে যেতে পারতো । শুধু তার উপস্থিত বুদ্ধিই তাকে এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিলো ।


[শেষ]

Sort:  
 last month 

চেষ্টা কখনো বিফলে যায় না। দুলাল তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে গেছে বাঁচার জন্য অবশেষে বেচারা রক্ষা পেল।আমিও চেয়ে ছিলাম বেচারা যেন রক্ষা পায়।যদিও এটা গল্প তবুও গল্প পড়তে পড়তে বাস্তবতায় স্থান দিয়ে ছিলাম। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি গল্প উপহার দিয়েছেন দাদা আমাদের মাঝে। দাদা দুলালকে শেষমেষ উদ্ধার করেই ছাড়লো।এতো সুন্দর গল্প উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।আশাকরি আরো সুন্দর সুন্দর গল্প উপহার পাবো আপনার কাছ থেকে।

দারুন একটি উত্তেজনা, টান টান উত্তেজনা, কি যে হয় দুলালের, এটা ভাবতে ভাবতে আমার মতো পাঠকরা হৃদ স্পন্দন বেড়ে যাচ্ছিল।
শেষে বেলা উঠার সাথে সাথেই আমরাও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
সবমিলে অনেক সুন্দর একটা কেচ্ছা আমাদের নিকট শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনি ও আপনার পরিবারের জন্য শুভ কামণা রইল। ভালো থাকবেন।

 last month 

উপস্থিত বুদ্ধি এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে অবশ্যই জীবনে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে গেল জীবন দুলাল তার জীবনকে বাঁচাতে পারল।

 last month 

জয় বিড়ির জয়। যে বিড়ি মানুষের ক্যান্সারের কারণ সেই বিড়ি আবার মাঝে মাঝে জীবনো বাঁচিয়ে দেয়৷ আসলে কোন জিনিসকেই তুচ্ছ করা ঠিক নাহ্। কখন কোনটা কাজে লাগে, বলা খুব মুশকিল । জাস্ট অসাম ফিনিশিং দাদা।

 last month (edited)

খুবই সুন্দর হয়েছে দাদা, পুরো গল্পটাই।তবে শেষ টা হয়েছে দুর্দান্ত এবং টান টান উত্তেজনাপূর্ণ।দুলাল বিপদের সময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে তার উপস্থিত বুদ্ধি কে কাজে লাগিয়েছে এবং ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাই সে বাঁচতে পেরেছে।এই গল্প থেকে বোঝা গেল যে বিপদের সময় ভয় না পেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।

 last month 

উপস্থিত বুদ্ধি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা সবার থাকে না। দুলাল এইরকম একটি বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার পেছনে তার উপস্থিত বুদ্ধি এবং ধৈর্য্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। পিশাচ দেখে সে দৌড় দিতে পারত কিন্তু সে দেয়নি কারণ সে বুঝে গিয়েছিল এতে কোন লাভ হবে না, এখানেও দুলাল তার চতুর বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। এই গল্পের শিক্ষা হলো বিপদে আমাদের মাথা ঠান্ডা রেখে চিন্তা করতে হবে। অতি ব‍্যস্ত হয়ে নতুন কোনো বিপদ সৃষ্টি করা যাবে না।

Thank You for sharing Your insights...

and Your art.

 last month 

সত্যিই দুলালের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা না করলেই নয়।আগের অংশ পর্যন্ত পড়ে মনে হয়েছিল দুলালের বুঝি এ জাত্রায় রক্ষা হবে না।গল্পের শেষটা সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 last month 

গল্প টা থেকে এটাই শিক্ষা নিলাম,কখনো হাল ছেড়ে দিতে হয় না,চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সফলতা একদিন আসবেই। যেমন টা,দুলাল তার শেস নিশ্বাস পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছে এবং সাফল্যের দেখা পেয়েছে।
ধন্যবাদ দাদাকে,এতো সুন্দর একটি অনুপ্রেরণা মূলক গল্প উপহার দেওয়ার জন্যে

 last month 

যাহোক অবশেষে দুলাল প্রণে বেঁচে ফিরল, গল্পের একটি সুন্দর সমাপ্তি হলো।

 last month 

হা, হা, হা, হা, হা
এটা একটা প্রশান্তির হাসি, শেষ দৃশ্যটার জন্য।
আমি আগেই বলেছিলুম, লেখকের মতি গতি ঠিক নেই, ঘুরে যেতে পারে সব কিছু। তবে খুব সুন্দর সমাধান দিয়েছেন, এটা কাংখিত ছিলো সকলের জন্য।

তবে হ্যা, একটা কথা বলতেই হবে, বিপদের সময় যতটা বেশী চিন্তিত হয়ে পড়বেন এবং ঘাবড়ে যাবেন, বিপদ কিংবা সমস্যা ততোবেশী বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং আমরা যদি ঠান্ডা মাথায় সব কিছু চিন্তা করি, তাহলে সহজেই সকল কিছুর সমাধান সম্ভব। অনেক ভালো লেগেছে গল্পটি ভৌতিক হলেও শিক্ষনীয় অনেক কিছু ছিলো তার মাঝে।

ভিন্ন কোন বিষয় নিয়ে, পরের নতুন কোন গল্পের অপেক্ষায় রইলাম আমরা।

 last month 

বিপদের সময় প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা নাও কাজে লাগতে পারে তবে এই ক্ষেত্রে বাস্তব, পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা ও উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যেতে পারে।আমরা অনেক সময় অনেক কে দেখি বিপদে মাথা থেকে যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে। আমরা বুঝিনা মাথা গরম করে সিদ্ধান্ত কখনোই আমাদের জন্য ফলপ্রসূ হয়না। ছোট বেলা যখন ভূতের গল্প শুনতাম তখন এর সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে আগুন জড়িত থাকত। বিড়ির আগুন ছোট হলেও এর থেকে বিপদে জীবন শিখা যে চলতে থাকে সেটায় প্রমাণিত হয়। গল্পটি ভৌতিক হলেও এর পরোতে পরোতে রয়েছে শিক্ষা, জীবন শিক্ষা, বাস্তব শিক্ষা।

 last month 

আমি ভেবেছিলাম এই গল্পের শেষ হবেনা মনে হয়। প্রথম থেকেই এই গল্পের মধ্যে একটা রহস্য রহস্য ভাব ছিল। বেচারা দুলালের শেষ রেহায়টা হলো। দাদা এমন গল্প আরো লিখেন। গল্প পড়তে বেশ ভালো লাগে আমার।

 last month 

বিপদে উপস্থিত বুদ্ধি যে কতটা কাজে লাগে তার একটি প্রমাণ হচ্ছে এই গল্পটি।আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক বিপদের সম্মুখীন হই আর নিজেরাই বিপদটা কমাতে গিয়েই আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে ফেলি। বিপদের সময় সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে হবে তা না হলে বিপদ কোনোদিনো কমবেনা।এইযে এই গল্পেই যদি দুলাল ভয়ে হাল ছেড়ে দিতো তাহলে তার জীবন প্রদীপ ওইখানেই আজ ধপ করে নিভে যেতো। কিন্তু সে চিন্তা করে ব্যাপারটা সুরাহা করেছে। দাদা আপনি লেখাতে সবসময় একটা শিক্ষা রাখেন যা সত্যিই আমাদের জন্য খুবই উপকারের। কারণ গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়ার মজাই আলাদা। আর আপনার লেখার ধরণ নিয়ে তো কিচ্ছু বলার নেই। এতো ভালো কি করেন লিখেন দাদা!তাও জীবনের দ্বিতীয় গল্পটা!সত্যিই মুগ্ধ হই আপনার কাজে, স্যালুট আপনাকে কারণ সবদিকেই সমান পারদর্শী আপনি। গল্পটা জাস্ট দারুণ হয়েছে দাদা।

 last month 

দারুন হয়েছে শেষ টা। কথায় আছে স্মোকিং কিলস, কিন্তু দুলাল এর ক্ষেত্রে স্মোকিং সেভস বলতে হবে😅।

শেষটা আসলে অতীব আশ্চর্যজনক ছিল। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আনন্দ উল্লাসে তো জীবনের চরম পর্যায় উঠে গেল

 last month 

বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছে আর উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই অবধারিত মৃত্যুর মুখ উঠে আসতে পারলো দুলাল। বিঁড়ি খেয়ে প্রাণে বাঁচবে এটা হয়তো দুলাল ভাবতেও পারেনি। আমিও ভাবিনি কিছু বিঁড়ি দুলালকে বাঁচাবে।

গল্প হলেও এটাই সত্যি, জীবনের বাস্তবতা থেকে গল্পের প্রতিফলন পেয়েছে। ইচ্ছাশক্তি দিয়ে কতো হেরে যাওয়া যুদ্ধে আবার ফিরে আসা যায়।

 last month 

পুরো গল্পটা খুবই সুন্দর উপস্থাপন করেছেন দাদা। গল্পের সারমর্ম এটি বলা যায় মানুষের সামনে বিপদ আসবে। তাই বলে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য মানুষকে অস্থির হলে চলবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে হবে এবং উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে বাঁচার পথ খুঁজে নিতে হবে। তাহলে সে সফল হবে। যেমনটি দুলাল করেছে সে তার উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে বিড়ির আগুন এর মাধ্যমে সে তার প্রাণ বাঁচিয়েছে।

 last month 

আমি তো প্রথম থেকে বলে আসছি দুলাল বেঁচে যাবে কারণ গল্পটির নাম হচ্ছে মৃত্যুর কাছাকাছি। যাইহোক এই গল্প থেকে বড় একটি শিক্ষা আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। বিপদের সময় ভয় না পেয়ে মাথা ঠান্ডা করে পরিত্রাণের উপায় বের করা। দুলালের ছিল দুর্দান্ত সাহস , উপস্থিত বুদ্ধি ও ধৈর্য শক্তি , এ কারনেই সে বেঁচে গিয়েছে। সে যদি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা না করত তাহলে হাটখোলায় তার বিড়ি ধরানোর কথা মনে আসতো না।

খুবই ভালো লিখেছেন দাদা, আমরা সবাই উপভোগ করেছি এবং সাথে সাথে আমাদের জন্য অনেক বড় ধরনের একটি শিক্ষা রেখে দিয়েছেন।

 last month 

গল্পের ৪নং পর্বেই আমি বুঝেছিলাম দুলাল সমস্ত বিপদকে উপেক্ষা করে নিজেকে বাঁচিয়ে নেবে।কারণ দুলাল একজন সাহসী যোদ্ধা, যে পরিবারের জন্য প্রতিনিয়ত পেটের দায়ে যুদ্ধ করে চলেছে।এখানে ও দুলালের তীব্র বাঁচার ইচ্ছাশক্তি শেষ মুহূর্ত অব্দি জেগেছিল তার মনে তাই সে শতবাধা পেরিয়ে বেঁচে গেছে।দুলালের পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলে ও উপস্থিত বুদ্ধি ছিল ভরপুর।সবথেকে দুলালের মধ্যে যে গুণগুলি ছিল ----
1.প্রবল বাঁচার ইচ্ছেশক্তি
2.ঠাণ্ডা মস্তিষ্ক
3.উপস্থিত বুদ্ধি
4.শেষ পর্যন্ত হার না মানার ইচ্ছে অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত লড়াই এর মনোবল।
এগুলোর জোরেই দুলাল আজ জীবিত।দুলালের জন্য এটি নতুন মৃত্যুভয়ের কিছু নয়, কারণ পেটের দায়ে দুলালকে প্রতিনিয়ত অর্ধমৃত্যুর খাটুনি খাটতে হয়।সে তার পরিবারের কথা চিন্তা করেছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।তাই অন্ধকার কেটে গিয়ে আলো এসেছে।
এই গল্প থেকে নেওয়া শিক্ষা--
1.সামান্য কোনো কিছু ও আমাদের মূল্যবান জীবনকে বাঁচিয়ে দিতে পারে,যদি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।যেমন দুলাল করেছিল বিড়ির আগুন দিয়ে।
2.সবসময় বিপদে পড়লে উত্তেজিত না হয়ে, ধৈর্য্য ধরে মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখতে হবে।
3.শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের মনোবল জাগিয়ে রাখতে হবে মনে।
অনেক শিক্ষনীয় ও মজার গল্প এটি।অনেক অনেক ধন্যবাদ @rmeদাদা।সুন্দর গল্প উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের সবাইকে।

 last month (edited)

সম্পূর্ণ গল্পটি থেকে আমি যা বুঝতে পেরেছি সেটা নিচে উল্লেখ করলাম।
গল্পটাতে একজন খেটে খাওয়া জেলার জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য প্রবল ইচ্ছা শক্তি ফুটে উঠেছে।যাতে দুলাল মিয়ার বেচেঁ থাকার আগ্রহ এবং তমুল বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।গল্পে দুলালের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা এবং ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করায় তার বেচেঁ থাকার পথ খুঁজে নিয়েছিল।এই গল্পটি আমাদের এটা শিক্ষা দেয় যে খুব ঘোর বিপদে পড়লে ভেঙ্গে না পরে ভয় শূন্য হৃদয় নিয়ে চিন্তা করলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

 last month 

উপস্থিত বুদ্ধি এবং প্রবল ইচ্ছা শক্তির জোরে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থেকেও দুলাল ফিরে পেল তার জীবন। বিপদে সব সময়ই আমাদের বুদ্ধি খাটিয়ে চলা উচিত। দুলাল তার জীবনকে রক্ষা করার জন্য উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়েছে। সে খুব ঠান্ডা মাথায় পুরো পরিস্থিতিকে সামাল দিয়েছে। বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিপদকে সামনে রেখে দুলাল তার ভয়কে জয় করে তার জীবনকে রক্ষা করেছে। শুধু দুলালই বেঁচে গেল তা নয় সাথে বেচেঁ গেলো তার সেই পরিবার। যারা দুলালের উপার্জনের উপর নির্ভরশীল। এই গল্পটির সবগুলো পর্ব পড়ে আমরা শিক্ষা পেলাম যে, যেকোন বিপদে হাল ছাড়তে নেই। সব সময় নিজের মাথা ঠান্ডা রেখে উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো বিপদের পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করলে আমরা অবশ্যই বিপদ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। অবশেষে গল্পটির সুন্দর একটি সমাপ্তি হলো। @rme দাদা, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ গল্পের শেষটা এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য।

 last month 

আহ বেঁচে থাকার কি আনন্দ। এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসা মানে নবজন্ম লাভ করা। গল্পের শেষটা দারুন হয়েছে। আমরা সব সময় গল্পের হিরোদের কে জিততে দেখতে চাই। দুলাল যে এযাত্রায় বেঁচে গিয়েছে আমি তাতেই খুশি। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর ভূতের গল্প উপহার দেয়ার জন্য।

 last month (edited)

বুদ্ধি আর উপস্থিত বুদ্ধি। দুটোই ছোট্ট কথা হলেও, মানব জীবন পুরোটাই এই ব্যাপ্তিতে কঠিন ভাবে সীমাবদ্ধ। যার বুদ্ধি নাই, সে জড় মত। কেননা পশুপাখি ও গাছ পালা, কিট পতংগ অর্থাৎ সকল প্রানির মধ্যে কমবেশি এদুটি গুন দেখা যায়।

এ গুন আবার গল্পের পিচাশের ছিলনা। আগুন দেখে ভয় পাওয়া পিচাশ, উপস্থিত বুদ্ধির অভাবে বোকা মানবের একায় কোন ক্ষতি করতে সক্ষম হয়নি।

এ গল্প থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।

শিক্ষনীয় বিষয় গুলো হলো, পিচাসের মত রক্ত চক্ষু, কানফাটা তর্জন-গর্জন, কুন্ডলী পাকে বসে বসে সমালোচনার ঝড় তুলে, কোন কাজে সফল হওয়া যাবেনা বা যায়না।

সফল হতে হলে, দুলালের মত ধীরস্থির ভাবে, বিড়ি, পাগড়ি, পুকুর, চৌকাট,বাজার, আগুন, হারিকেন অর্থাৎ আপনার আশে পাশে যারা বা যা কিছু আছে, সবার সমন্বয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেতে হবে।

পিচাসের মত একাই হুংকার ছেড়ে আর সমালোচনার ঝড় তুলে কোন লাভ নাই। তাতে কোন ভাবেই কখনো সফল হওয়া যাবেনা বা যায়না।

লেখক তার, শেষ প্যারার উপসংহারে, দুলালের জীবন সুতা নির্ভর বলেছেন। সুতা একটা তুচ্ছ জিনিস। তার(সুতা) নাম উপসংহারে ঘোষণা দিয়ে লেখক বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, ছোট বলে কাউকে, অবহেলা করা যাবেনা। অর্থাৎ ছোটও হতে পারে আপনার জীবনের অনেক কিছু বা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাথেয়।

"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির বন্ধুগণ -
আমাদের এডমিন @rme বাবু একজন দুরদর্শি প্রতিভার মানুষ। তিনি মোক্ষম সময়ে এমন একটি গল্পের অবতারনা করে, আমাদের সবার জন্য শিক্ষনীয় বিষয় গুলোকে পুঙ্খানু পুঙ্খানু করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যেটা কমিউনিটির সবার জন্য বুঝার ও পরিক্ষার বিষয়। যা তিনি মুখে না বলে লেখনিতে, সবিস্তারে জানানোর এবং আমাদের প্রতিভা যাচাইয়ের চেষ্টা করেছেন। আমার ক্ষুদ্র মন্তব্য জানতে, সবাইকে সুস্বাগতম।

 last month 

অসাধারণ হয়েছে গল্পটি দাদা শেষ পর্যন্ত গল্পটার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করেছে কি হয় কি হয় আবার খুব ভয়ও লেগেছে।ভুতের গল্প পড়লে আমার খুব ভয় লাগে আবার না পরেও থাকতে পারি না।গল্পটি থেকে বড় একটি শিক্ষণীয় আছে বিপদে ধর্যধারণ করতে হবে।দাদা এমন গল্প আরো চাই।

 last month 

ভাষাগুলো অনেক ভাল লাগছিল আর তাই পড়তে খুব আনন্দ পাচ্ছিলাম। দুলাল ভাল করছে আর বেচে যাচ্ছে তাই পড়তে আনন্দ লাগছিল বেশি আজ, ভয়টা কম ছিল। বিপদে মাথা ঠান্ডা।

দিগন্তে দেখা দিলো চিরদিনের চেনা লাল সূর্য । জীবনে কোনো সূর্যোদয় দেখে এতটা আনন্দ দুলাল আর পায়নি

অনুভূতি

 last month 

গল্পের শেষটা অনেক ভালো লেগেছে দাদা। জীবনেরর শেষ পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়তে নেই। উপস্থিত বুদ্ধির জোরে দুলাল ফিরে পেল তার জীবন। জীবনে যতই বিপদের সম্মুখীন হই না কেন সব সময় নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে চলা উচিত। তাহলে হয়তো আমরা সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবো। হয়তো এভাবেই দেখা পাবো জীবনের নিভে যাওয়া প্রদীপ এর মাঝেও রক্তিম আলোর সন্ধান।

 last month 

উত্তর:

মহামারীর কারণে নিতাই এর মৃত্যু হয়েছিল তাই তার দেহ দাহ করা হয়নি। কারণ তাকে দাহ করার মতো কেউ ছিল না। মহামারী যেহেতু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তো তাই ভয়ে কেউ মহামারীতে আক্রান্ত বা মৃত্যু বরণ করা ব্যক্তিকে স্পর্শ করতোনা না।

 last month (edited)

খুব সুন্দর গল্প । আমি আগে ভূত এফ এম শুনতাম । খুবি ভাল লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে ।

 last month (edited)

গল্প টা এক কথায় অসাধারণ ছিল। শেষ এপিসোডে দারুন কিছু উত্তেজনার মুহূর্ত ছিল।

দাদার প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আমি বলতে চাই নিতাই যেহেতু কলেরায় মারা গিয়েছে, বর্তমানে কলেরা তেমন মারাত্মক অবস্থানে না থাকলেও একটা সময় এটি মারাত্মক একটি মহামারি ব্যাধি হিসেবে ধরা হত। আর আমি যতদূর জানি আগেকার দিনে বিশেষ করে হিন্দু বা সনাতন ধর্মের কেও এই ধরনের কোন ব্যাধি তে মারা গেলে ধর্মীয় রীতি মেনে তাকে দাহ বা সৎকার না করে মরদেহ কে ভেলায় করে গঙা/পদ্মা নদীতে বা পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হত। এই কুসংস্কার বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেখা যেত বেশি। আর হিন্দু ধর্মীয় মতে সঠিক নিয়মে দাহ না করলে মৃত ব্যক্তির আত্মা শান্তি পায় না। যেহেতু নিতাই কলেরায় বা মহামারি তে মারা গেছে এবং অজপাড়াগাঁ বা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল হওয়ায় আমার মনে হচ্ছে নিতাই কে সঠিক ভাবে দাহ না করে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে যার ফলে তার আত্মা শান্তি পায় নি এবং সে পিচাশ হয়ে তার বন্ধু দুলাল এর প্রাণ হরণ করতে এসেছে। এই ছিল আমার উত্তর।

 last month (edited)

@rme দাদা আপনার এই গল্পটা আমি কয়েকদিন আগেই পড়া শেষ করেছিলাম।কিন্তু হঠাৎ আজকে ডিসকর্ড হ্যাং আউটে প্রশ্নোত্তর পর্বের অ্যানাউন্স দেওয়ার পর গল্পটা আরো কয়েকবার ভালো করে পড়লাম।আসলে আমি ভাবতেই পারি নি এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন আপনি করবেন।যদিও হিন্দু ধর্মে মৃতদেহ দাহ সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা নেই তারপরেও গুগুলে অনেক ঘাটাঘাটি করে আপনার প্রশ্নের উত্তরটি খোজার চেষ্টা করেছিলাম এবং তা হলো–

প্রশ্নঃনিতাই মারা যাবার পর তার সৎকার(মৃতদাহ) না হবার কারণ কি?
আমার উত্তরঃমৃত্যুর কাছাকাছি গল্পে নিতাই যে একটি পিশাচ তা গল্পের তৃতীয় পর্বে দুলাল বুঝতে পারে এবং অবশেষে নিতাই সেটা স্বীকারও করে।স্বীকারোক্তি তে নিতাই বলেছিল–শশুরবাড়ি গিয়ে কলেরায় শেষ হয়ে গেলাম । আমার দাহ অব্দি হলো না।
এখান থেকে দেখা যায় নিতাই কলেরায় মারা গিয়েছিল।কলেরা এখন সাধারণ একটি রোগ হলেও আজ থেকে প্রায় অনেক বছর আগে এটি ছিল একটি মহামারী রোগ। বিভিন্ন ধর্মে এর নাম দেওয়া হয়েছিল উলাওঠা বা ওলাবিবি।তখনকার দিনে মানুষেরা কলেরায় কেউ মারা গেল তার লাশ দাহ না করে গঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দিত।খবরটির সোর্চঃনিউজ সোর্চ

কিন্তু এবার একটি প্রশ্ন থেকে যেতে পারে আজ এতো বছর পরেও বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের ফলেও কেনো নিতাইয়ের লাশ দাহ না করে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হলো?
প্রশ্নটির সহজ উত্তর হলোঃদাদা গল্পের প্রথমেই বলেছে গ্রামটি ছিল অজপাড়াগাঁ অর্থাৎ যেখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধার খুব অভাব।যেখানে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে মৃত্যুর খবর পৌছাতেই কয়েকদিন লেগে যায় সেই গ্রাম তো অজপাড়াগাঁ হবেই।তাই আমার মনে হয় নিতায় এর গ্রামটিও তেমন ছিল এবং তারা সেই প্রাচীন নিয়মকেই বা এক কথায় বাপ-দাদাদের নিয়মকেই অনুসরণ করে কলেরা মহামারী বা উলাউঠা রোগে কেউ মারা গেলে তাকে শেষ সৎকারে দাহ না করে নদীতে প্রচলিত নিয়মে ভাসিয়ে দিত।যা এই গল্পের নিতাই এর সাথেও হয়েছে।তাই আমি অবশেষে এই কথায় উপনীত হলাম যে-নিতাইয়ের গ্রামের আগে থেকে প্রচলিত নিয়মের কারণেই নিতাইয়ের লাশ দাহ করা হয়নি।

আর মৃতদেহ দাহ করা না হলেই যে সে পিশাচ হবে এর সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক কোন রীতি নেই যা একমাত্র রুপকথার কল্পকাহিনীতে দেখতে পাওয়া যায়।দাদা মনে হয় আগেই ঠিক করে রেখেছিল তাই সৎকার না হলে পিশাচ হওয়ার ব্যাপারটা প্রশ্নের তাল ঠিক রাখার জন্যই আমার মতে করা হয়েছে।সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ লেখনি দাদা।আপনার ট্যালেন্ট এর প্রতি সম্মানবোধ আরো বেড়ে গেলো।ধন্যবাদ সবাইকে।❤️

 last month 

দাদার প্রশ্নের উত্তরটা ইতিমধ্যে দুজন দিয়ে দিয়েছে। সেজন্য আমি আর নতুন করে দিচ্ছি না।

Loading...
 last month 

1/ নিতাই মারা যাবার পর তার মৃতদাহ না হবার কারণ কি?

উওরঃ মারা যাওয়ার পর মৃতদেহ না পড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে আমি এখানে বলব যে কুসংস্কার। গল্পটি অনেক বছর আগের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছ। সেই সময়কার মানুষ এমন আধুনিক সভ্যতায় বাস করত না। সেখানকার মানুষের মধ্যে কুসংস্কার ছিল। সেই সময়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের মহামারী আবির্ভাব হয় । যার মধ্যে অন্যতম একটি মহামারী ছিল কলেরা। আর কলেরায় মানুষ আক্রান্ত হলে বেশি দিন বাঁচতো না। অল্প কিছুদিনের মধ্যে মানুষ মারা যেত। আর সেই সময়কার মানুষের মধ্যে একটি ধারণা ছিল যে এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। যে বাড়িতে এই রোগটি হত সে বাড়িতে মানুষ অন্য বাড়ির যেত না। যার কারণে একজন মানুষ যদি কলেরা আক্রান্ত হয়ে মারা যেত। তবে তার সৎকারের জন্য গ্রামের মানুষ সাহায্য করত না।
যার ফলে নিরুপায় হয়ে সৎকার বাদে তার লাশটি কোন একটি নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো। বা ভাগাড়ে ফেলে দেয়া হতো। আর যেহেতু হিন্দু ধর্মে একটা প্রথা আছে মৃতদেহ সৎকার না করলে সে পিশাচ হয়ে যায়। আর ঠিক তেমনটি হয়েছে। যেহেতু নিতাই শ্বশুর বাড়ি গিয়ে কলেরায় মারা গিয়েছে। তাই তার দেহটা সৎকার করা হয়নি। আর এর জন্য নিতাই একজন পিশাচে পরিণত হয়েছে।

 last month 

কলেরা একটি মহামারী রোগ ছিল সেই সময়ে।আর নিতাই মারা গিয়েছিল কলেরা রোগেই।যার ফলে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে কোন সাব দাহ্য করেনি।এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার বলবো আমি, গল্পের মূল বক্তব্য এটাই বলছে যে নিতাই এর সাব দাহ্য না হওয়ার কারণেই সে ভুত হতে দুলাল মিয়ার সামনে এসেছে।তবে এটা কুসংস্কার মানুষ মরলে কখনো ভুত হয় না।

ধন্যবাদ দাদা।ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য।

 last month 

প্রশ্ন: নিতাই এর মৃতদেহ দাহ না হওয়ার কারণ কি?

উত্তর:

গল্পে উল্লেখিত সময়টি ছিল শ্রাবন মাস অর্থাৎ বর্ষাকালের মাঝামাঝি সময়।সেইজন্য গ্রাম্য অজপাড়াগাঁয়ে চারিদিকে জলে ভরা ও হাটুসমান কাদা ছিল।কলেরা একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।যেহেতু নিতাই এর শশুরবাড়ী অজপাড়াগাঁয়ে ছিল,সেহেতু সেখানে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় জলের অভাব ছিল। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও ছিল না।কলেরা সাধারণত দূষিত পানি, দূষিত খাবার গ্রহণের ফলে হতে পারে।এছাড়া মানুষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মল ত্যাগ করলে ,কলেরা আক্রান্ত রোগীর হাতের মাধ্যমে এবং মাছির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।এটি মোটেও ওলাবিবি রোগ নয় কারণ সেটি হলো বসন্ত।যেহেতু নিতাই অনেক দিন পর তার শশুর বাড়ীর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়াতে গিয়েছিল, তাই সেখানে বর্ষাকালে চারিদিকে জলে কলেরা রোগীর মল মিশে গিয়েছিল, আর সেই নোংরা জল পান করার ফলে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল কলেরা।কলেরা রোগটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্ত্রের রোগ।এটি হলে 2-3 দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়।নিতাই এই কলেরা রোগে আক্রান্ত হলে তাকে সবাই অবহেলা করে ফলে এটি গুরুতর হয় এবং নিতাই মারা যায়।যেহেতু বর্ষাকাল ছিল ,চারিদিকে কাদাজল তাই গ্রাম্য এলাকায় মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করতে নিতাইয়ের দেরি হচ্ছিল।এছাড়া ঘরে ঘরে মহামারী কলেরার আতঙ্ক ও ছিল সকলের মনে।হিন্দুধর্ম মতে কোনো মৃত ব্যক্তির দেহ যদি বাসী হয় অর্থাৎ একদিন পার হয়ে যায় তবে মৃতব্যক্তির প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়ায় এবং কাছের মানুষদেরকে বিরক্ত করে।যেহেতু নিতাই পরশু মারা গিয়েছিল তাই তার প্রেতাত্মা তার কাছের বন্ধু দুলালকে বিরক্ত করতে এসেছিল।মূলত গ্রাম্য কুসংস্কার ও বর্ষায় গ্রামে কাদাজল থাকার ফলে নিতাইয়ের মৃতদাহ সৎকার করা হয়নি।

 last month 

আপু আমি কিন্তু সিউর হয়েই বলেছি রোগিটি ওলাবিবি।সাথে একটি নিউজ লিংক ও দিয়েছি ওটা পড়লে আশা করি বুঝতে পারবেন।আর বসন্ত রোগকে গ্রামে বলে ঝোলাইবিবি।ধন্যবাদ

 last month 

প্রথমে দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই যে আপনি আমাদের মাঝে এরকম একটি রহস্য ঘেরা ভৌতিক গল্প "মৃত্যুর কাছাকাছি" উপস্থাপন করার জন্য।
আপনি একটি প্রশ্ন রেখেছেন নিতাইকে কেন দাহ করা হয়েছিল না?

প্রথমত আমি বলবো যেহেতু গ্রামটি ছিল একটি অজ পাড়াগাঁ সেহেতু এখানে সভ্যতার পরিবর্তনের ছোঁয়া নেই বললেই চলে।
দ্বিতীয়তঃ আপনি গল্পের মধ্যে উল্লেখ করেছিলেন নিতাইয়ের কলেরা হয়েছিল এবং সে এই কলেরায় মারা গিয়েছিল। একটা সময় ছিল কলেরা একটা মহামারী হিসেবে সবাই জানত এবং ঐ সময়কার সময় কলেরা অনেক মানুষ মারা যেত। মানুষ যদি জানত যে কোন এলাকায় কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাহলে তার আশেপাশে তো দূরের কথা সে এলাকা ছেড়ে চলে যেত। যেহেতু একটা অজ পাড়াগাঁ ছিল এবং সেখানে শিক্ষা এবং সভ্যতার কোন ছোঁয়াই তখন ছিল না এজন্য মানুষ কুসংস্কারকে খুব বিশ্বাস করত। তাই যখন নিতাইয়ের কলেরা হয়েছিল মানুষ তার কাছে কিনারে তো যায়ই নেই বরং তারা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল তাকে রেখে এবং সে কষ্ট পেয়ে পেয়ে মারা গিয়েছিল সে কারণেই নিতাইকে দাহ করা হয়নি। আর এই জন্যেই তার অতৃপ্ত আত্মা অনেকটা রেগে গিয়ে সে তার স্ত্রীকে খেয়ে ফেলল এবং দুলালকে ও খাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিল।

তখন ছিল বর্ষাকাল আর বর্ষাকালের চতুর্দিকে অথৈ পানি আর পানি রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ ছিল এবং এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যেতে অনেকটা সময় লেগে যেত সেটাও বিবেচনার বিষয় এবং এমনও হতে পারে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সবাই কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার কারণে সবাই মারা গিয়েছিল এজন্য খবর দেওয়ার মতো কেউ ছিলনা নিতাইয়ের বাড়িতে। আর যদিও তার শ্বশুর বাড়ির কেউ বেঁচে থাকে তারা হয়ত এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল অন্য এলাকায়। কারণ তখন তারা নিজের জীবন বাঁচানো নিয়েই ব্যস্ত ছিল কাউকে খবর পাঠানোর কথা মনেই নেই হয়ত।

 29 days ago 

দাদা আপনার প্রশ্ন ছিলো নিতাই কে কেনো দাহ করা হয়নি?

আমার উত্তর হচ্ছে,
নিতাই কলেরায় মারা গিয়েছিলো।আর তৎকালীন সময়ে কলেরা রোগীকে কেও ছুঁয়ে দেখতোনা কারণ সবাই ভাবতো কলেরা ছোঁয়াছে। আর তাই নিতাই কে কেও ছুঁয়ে দেখেনি এবং দাহ করার জন্য ছুঁতে হবে। আর তাই নিতাই কে দাহ করা হয়নি অর্থাৎ কেও দাহ করেনি।

 27 days ago 

PicsArt_09-22-01.20.35.png

আমরা যারা ১৯০০ সালের ৭০, ৮০ ও নব্বইয়ের দশকে লেখা পড়া করেছি, তাদের নিশ্চয় মনে আছে। যে কোন প্রশ্নের উত্তরে, অপ্রাসঙ্গিক কিছু লেখা যাবেনা। তাতে নং কাটা যাবে।

@rme বাবুর জানতে চাওয়া প্রশ্নের উত্তর, পিচাশ নিতাই নিজেই উদেশ্য প্রনোদিত ভাবে নিজের পিচাশ হওয়ার কথা, তার বন্ধু দুলালকে অকপটে জানিয়ে দিয়েছে(স্ক্রিনশট) । এজন্য অন্য কোন প্রসংগ এখানে টেনে আনার অবকাশ রাখে না।
অর্থাৎ নিতাই তার শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে কলেরায় মারা গিয়েছে। তার দাহ না হওয়ায়, সে এখন প্রেত বা পিচাশ হয়েছে। ধন্যবাদ সবাইকে