পারিবারিক দায়িত্বের চাপ অনেকসময় আচরণে পরিবর্তনের কারণ হয়।

in Helpage India2 months ago

IMG-20210316-WA0092.jpg

বন্ধুরা,
আপনাদের মধ্যে অনেকের লেখা পড়েই আমার আজকের এই শীর্ষক নিবার্চন।
আমরা যারা অনেকটা সময় ধরে সংসার জীবন অতিবাহিত করছি, তারা নানা সময় নিজের ভালোবাসার মানুষটির পরিবর্তন নিয়ে ভাবিত হয়ে পড়ি।

কেনো সে আগের মত ভালোবাসা ব্যক্ত করে না, কেনো সে আগের মত করে না বলা কথা বোঝে না, কেনো সবসময় একটা বিরক্তি তার মধ্যে কাজ করে এমন অনেক প্রশ্ন মনকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।

কিন্তু একটু বাস্তবিকতার দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করলে অনেক প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনারা নিজেরাই পেয়ে যাবেন।

আপনি যার কথা বলছেন তিনি একজন স্বামী, একজন পিতা।
আপনি যার সাথে তুলনা করছেন তিনি ছিলেন শুধুই একজন প্রেমী বা ভালোবাসার মানুষ।

আপনি নিজে যেমন সাংসারিক গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়েছেন এবং নিজের দৈনন্দিন রুটিন টা বদলে গেছে;
ঠিক তেমনি আপনার ভালোবাসার মানুষ টির ও কিন্তু দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

কাছের মানুষকে সুখী জীবন দেবার প্রচেষ্টায় তিনি নিজের সংঘর্ষের পরিধি অনেকগুণ বাড়িয়ে ফেলেছেন।

আচ্ছা! আপনার স্বামী যখন আপনার জন্য আপনার পছন্দের জিনিসটি কিনে আনে তখন কি আপনি উপলব্ধি করেন যে আপনার স্বামীর ও কিছু প্রয়োজন সে অপূর্ণ রেখে আপনাকে এবং সন্তান কে খুশি করছেন?

সব ক্ষেত্রে বিষয়টি না খাটলেও আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু দেখেছি একজন পুরুষ যখন সাংসারিক দায়িত্বের মধ্যে দিয়ে যায় এবং একাই তাকে সব দায়িত্ব গুলো পালন করে যেতে হয় তখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করে।

ঘর সামলানো যেমন কঠিনতম কাজ, তেমনি সেই ঘরের প্রয়োজনের যোগান দেওয়াটা কিন্তু মোটেও সহজ কাজ নয়।

জীবনটা তো ৩ঘন্টায় শেষ হয়ে যাওয়া সিনেমা নয়; যে, নিজের স্বামীকে শাহ রুখ বা অমিতাভ মনে করে ৩-৪ তে গান গেয়ে একটু রোমান্টিকতা দেখিয়ে শেষ হয়ে যাবে।

IMG-20210316-WA0047.jpg

জীবনটা হলো হতে হাত দিয়ে অনেকটা দুর হেঁটে যাওয়া।
যেখানে প্রতিকূলতার সময় একে ওপরের কাধে কাধ মিলিয়ে সময় টা পার করা।
না দিতে পারাটা যদি দুঃখজনক মনে হয়; তাহলে না দিতে পারার পিছনের কারণটা না বোঝার চেষ্টা করাটা ও দুর্ভাগ্যজনক।

নিজের ভালোবাসার মানুষটি কে টাকা ছাপানোর মেশিন মনে না করে; সিনেমার হিরো না মনে করে;

নিজের জীবনের একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে ভাবার চেষ্টা করুন, যিনি সারাদিন আপনাদের কিভাবে ভালো রাখা যায় সেই চেষ্টায় মেতে থাকতে গিয়ে মাঝে মধ্যে হাপিয়ে উঠে বাক সংযম হারিয়ে ফেলেন।

মুখের কথা নয় মন দিয়ে উপলব্ধি করুন মানুষটাকে।

আমি অনেক মহিলাকে দেখেছি, যারা সারাদিন এর জমিয়ে রাখা নালিশ স্বামী কাজ থেকে ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই শুরু করে দেয়।

আমার অনুরোধ একটা মানুষ ক্লান্তি নিয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নিজের নালিশ এর ঝুড়ি নিয়ে দয়া করে বসবেন না।
বরঞ্চ জানার চেষ্টা করুন আপনার মনের মানুষটির দিন আজ কেমন গেলো।
কি কি সমস্যায় মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে ইত্যাদি।

একজন নারীর মনের কথা বোঝা ও অবশ্যই স্বামীর দায়িত্ব কিন্তু, আমার মনে হয় উভয়কে উভয়ের সাথে কথা বলার আগে সঠিক সময় এবং পরিস্থিতি যাচাই করে কথা শুরু করা উচিত।

এটা আমার নিজের উপলব্ধি, সকলে সহমত নাও হতে পারেন, জীবন যুদ্ধটা সকলের নিজস্ব, তবে বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আমার মনে হয় অনেক মান অভিমান এড়ানো যায়।
আজ এই পর্যন্তই। বাইরের পরিস্থিতি সুবিধার নয়, সাবধানে থাকবেন সবাই।

IMG_20210428_223038.jpg

Sort:  
 2 months ago 

tumi valo boleso tobe majhe majhe poribar er manus kew bojha uchit sob somoy sobar mon manosikota ak rkm jai nah .anyway thanks for share your experience.

 2 months ago 

Mone hosse didi tumi amr moner kotha gula bujhte pereso. Jaihok dhonnobad tomake.

 2 months ago 

@sonu98 খুব সুন্দর লিখেছেন। আমি নিজেও অনেক সময় এই ভুল করেছি, তবে এখন বুঝতে পারি। তাই নিজেকে শুধরে নিতে শিখছি। আপনার লেখা পড়ে আর ও ভালো বুঝতে পারছি।ধন্যবাদ আপনাকে।